আর্সেনিক বিষক্রিয়া (আর্সেনিকোসিস)

Arsenic Poisoning (Arsenicosis)

লক্ষণসমূহ

  • হাতের তালু ও পায়ের তলার চামড়া শক্ত ও খসখসে হয়ে যাওয়া
  • শরীরে, বিশেষ করে বুক ও পিঠে ছোট ছোট কালো বা সাদা দাগ
  • দীর্ঘদিন দুর্বলতা ও হাত-পায়ে ঝিনঝিন
  • দীর্ঘদিন পরে ত্বক, ফুসফুস বা মূত্রথলির ক্যানসারের ঝুঁকি
  • লক্ষণ দেখা দিতে সাধারণত কয়েক বছর (অন্তত ৫ বছর) লাগে

কারণসমূহ

  • দীর্ঘদিন আর্সেনিকযুক্ত নলকূপের পানি পান করা
  • আর্সেনিকযুক্ত পানি দিয়ে রান্না করা
  • আর্সেনিকযুক্ত পানিতে সেচ দেওয়া ফসল
  • বাংলাদেশের অনেক এলাকার ভূগর্ভস্থ পানিতে প্রাকৃতিকভাবে আর্সেনিক থাকে

প্রতিরোধ

  • নলকূপের পানি পরীক্ষা করানো—লাল রং করা কল আর্সেনিকযুক্ত, সবুজ রং করা কল নিরাপদ
  • আর্সেনিকযুক্ত পানি খাওয়া ও রান্নায় ব্যবহার বন্ধ করা
  • গভীর নলকূপ, পরিশোধিত পানি বা সংরক্ষিত বৃষ্টির পানির মতো নিরাপদ উৎস ব্যবহার করা
  • পুষ্টিকর খাবার খাওয়া

চিকিৎসা

সবচেয়ে জরুরি হলো সাথে সাথে আর্সেনিকমুক্ত পানি পান শুরু করা—এতে অনেক লক্ষণ ধীরে ধীরে কমে আসে। ত্বক বা অন্যান্য সমস্যার জন্য ডাক্তার প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেন। ক্যানসারের ঝুঁকি থাকায় ডাক্তার পরামর্শ দিলে পরীক্ষা করানো জরুরি। চিকিৎসা ডাক্তার ঠিক করবেন।

কখন ডাক্তার দেখাবেন

হাত-পায়ের চামড়া শক্ত হওয়া বা শরীরে কালো-সাদা দাগ দেখা দিলে, বিশেষ করে আর্সেনিকপ্রবণ এলাকায় থাকলে, ডাক্তার দেখান এবং পানির উৎসের কথা জানান। চামড়ার শক্ত দানায় ঘা যা সারছে না, রক্তপাত, দীর্ঘদিন কাশি বা কাশির সাথে রক্ত, অথবা প্রস্রাবে রক্ত হলে দ্রুত হাসপাতালে যান।

প্রস্তাবিত বিশেষজ্ঞ

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ